ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দর্শনা হল্ট রেলওয়ে পুলিশের সহযোগীতায় হারানো ব্যাগ সহ ব্যাগের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফিরে পেলেন এক যাত্রী রাজশাহী জেলা শাখা স্বাচিপ সভাপতি ডা. জাহিদ ও সম্পাদক ডা. অর্ণা জামান চুয়াডাঙ্গায় রেললাইনে ফাটল ধীরগতি ট্রেন চলাচল দর্শনা হল্ট রেলওয়ে স্টেশনে বিশেষ অভিযানে সাগরদাড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি থেকে একজন পকেটমার গ্রেফতার গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবনশঙ্কায় স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী গাজা নিয়ে মতবিরোধ, প্রথম ইহুদি-আমেরিকান বাইডেন কর্মকর্তার পদত্যাগ শ্রম আইন সংশোধনে আইএলও’র পরামর্শ গ্রহণ নিয়ে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হবে: আইনমন্ত্রী রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে শোইগুকে সরিয়ে দিচ্ছেন পুতিন ভয়াবহ আগুন ইসরাইল সেনাঘাঁটিতে নতুন করে চুরি হয়নি রিজার্ভ : বাংলাদেশ ব্যাংক

পবা-মোহনপুরের উন্নয়নে নৌকার প্রার্থী আসাদের ১৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩

ইউসুফ চৌধুরী-রাজশাহী: কৃষি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্মার্ট পবা-মোহনপুর বাস্তবায়নের অঙ্গিকার করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী মোহাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ।

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর সিটি হাট সংলগ্ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তিনি তার ১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। এসময় আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে আইন অনুযায়ি কাজ করবেন, সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে এলাকার মানুষের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। প্রথম কাজ হবে পুরানো রাস্তা সংস্কার ও নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণ সহ যোগাযোগ ব্যবস্থান উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া।

আসাদুজ্জামান বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নে পূর্ণ অঙ্গিকারসহ আমি পবা-মোহনপুরের জন্য আমার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনয়ন করেছি।

আসাদুজ্জমান আসাদ তার ১৩ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনায় ঘোষণা করে বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে পবা ও মোহনপুরকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যা যা করা দরকার সবকিছুই করবেন। স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে।

আসাদুজ্জমান আসাদ তার ১৩ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রথমেই উল্লেখ করেছেন শিক্ষা উন্নয়নের বিষয়। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গঠনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ। পবা-মোহনপুরবাসীর দীর্ঘদিনের চাওয়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ। মানসম্মত, যুগোপযোগী শিক্ষাবান্ধব ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠনে বিশেষ দৃষ্টি প্রদান।

প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারিকরণ ও এমপিওভুক্ত করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ স্থাপন। খেলার মাঠসমূহের আধুনিকীকরণসহ নিয়মিত খেলাধূলার ব্যবস্থা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন। গরীব, দুঃস্থ ও অসহায় শিক্ষার্থীদের সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোগে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা। স্বাক্ষরতার হার ১০০ ভাগে উন্নীত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টির লক্ষ্যে পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপর গুরুত্ব দিয়ে আসাদ বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষন প্রদান পূর্বক আউট সোর্সিং, আত্মকর্মসংস্থান, ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি পূর্বক বিভিন্ন পন্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারি/বেসরকারি উদ্যোগে আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

আসাদ বলেন, শস্য/ফসল/খাদ্য উৎপাদনে কৃষকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। বিশেষ করে পান, আলু, মাছ, আম ইত্যাদি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি, হাট-বাজারের অবকাঠামোগত সংস্কার/নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ ফসলের জাত গবেষণা, বিকাশ ও উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভ্যবতা যাচাইপূর্বক গবেষণাগার স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে এ সকল পণ্য বিদেশে রপ্তানির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কৃষিতে সার ও কীটনাশক এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সংগ্রহ/সরবরাহ সহজতর করা, কৃষি খামার ও সমবায় সমিতির উদ্যোক্তাগণকে প্রেরণা ও প্রণোদনা প্রদানে গুরুত্ব দেয়া হবে।

আসাদ বলেন, অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়নপূর্বক প্রয়োজনীয় রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ সকল যোগাযোগ অবকাঠামো সংস্কার, মেরামত ও নির্মাণে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হবে। নওহাটা, কাটাখালি ও কেশরহাট পৌরসভার মেয়র মহোদয়গণের সঙ্গে আলোচনাক্রমে নাগরিকদের পৌর সুবিধাসমূহ নিশ্চিতকরণ, বিশেষ করে পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাট এবং পর্যান্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে।

নওহাটা শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষিপণ্য রপ্তানি ও দ্রুত বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে কার্গো বিমান চালুর উদ্যোগ গ্রহণ। কার্যকর নদী ব্যবস্থাপনা ও খননের মাধ্যমে নৌ-রুট চালু করা হবে।

এছাড়া ইশতেহারে আরো যেসব পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়ে তার মধ্যে রয়েছে,

পর্যটন কেন্দ্র, সৌন্দর্যবর্ধন ও আলোকায়ন: পবা-মোহনপুরের বিভিন্ন স্থানে পর্যটন কেন্দ্র/স্পট নির্মাণ করা। রাজশাহী সিটির আদলে পবা-মোহনপুরে দৃষ্টিনন্দন ও সৌন্দর্যবর্ধণ করণ। নদী-খাল-বিলের পাড় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা। নওহাটা থেকে কেশরহাট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দৃষ্টিনন্দন পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। পবা-মোহনপুরের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক স্থানসমূহে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আদলে টেকসই আলোর ব্যবস্থা করা।

মসজিদ, মন্দির, গির্জা, কবরস্থান ও শ্মশান: মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ। কবরস্থান ও শ্মশানের প্রয়োজনীয় উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ওঐতিহ্য: মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সকল কার্যক্রম পরিচালনা। গণকবর, বধ্যভূমি চিহ্নিত ও স্মৃতি ফলক স্থাপন। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের নামে রাস্তা-ঘাট, মোড়, ভবন স্থাপনার নামকরণ করা। শহীদ পরিবারের প্রতি যথাযথ সম্মান ও সকল প্রকার সমযোগিতা প্রদান। সংসদ সদস্যের আহ্বানে/উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানসমূহে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মঞ্চে আসন সংরক্ষণ।

পাঠাগার, ক্লাব ও সংঘ: জ্ঞানচর্চা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য পাঠাগার স্থাপন ও পাঠক সমাবেশ করা। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য বিদ্যমান ক্লাব ও সংঘের গতিশীলতা বৃদ্ধি করা ।

স্বাস্থ্য, চিকিৎসা: পবা-মোহনপুরের অন্তর্গত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধিসহ সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা। প্রয়োজন অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চিকিৎসক নিয়োগ, যন্ত্রপাতি সপ্তাহ, টেকনোলজিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবায় গুণগত পরিবর্তন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শোধনাগার: পবা-মোহনপুরের জণ্য একটি আধুনিক ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ। বর্জ্য শোধনাগার ও খাল-বিল, নদী-নালার পানি দূষণমুক্ত করার ব্যবস্থা করা।

মানবসম্পদ ও সামাজিক সুরক্ষা: মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদান। প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের উন্নয়নে জাতীয় নীতির বাস্তবায়ন, প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ ও অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিতকরণসহ তাদের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ সৃষ্টির ব্যবস্থা গ্রহণ। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ, বার্মসংস্থান সৃষ্টি, বাল্য বিবাহ রোধসহ নারীর ক্ষমতায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। শিশু অধিকদার রক্ষাসহ তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিশেষ পরিবেশ তৈরি করা।”মাদককে না বলুন’ শীষক মাদক বিরোধী কার্যক্রম গ্রহণ।

জুট মিল ও সুগার মিল: দীর্ঘদিন থেকে অবহেলিত জুট মিল ও সুগার মিলের উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী, পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নওহাটা পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন কবিরাজ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মোহনপুর উপজেলার সমন্বয়ক এনামুল হক, হুজুরিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পবা-মোহনপুরের উন্নয়নে নৌকার প্রার্থী আসাদের ১৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৪:১৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩

ইউসুফ চৌধুরী-রাজশাহী: কৃষি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্মার্ট পবা-মোহনপুর বাস্তবায়নের অঙ্গিকার করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী মোহাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ।

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর সিটি হাট সংলগ্ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তিনি তার ১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। এসময় আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে আইন অনুযায়ি কাজ করবেন, সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে এলাকার মানুষের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। প্রথম কাজ হবে পুরানো রাস্তা সংস্কার ও নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণ সহ যোগাযোগ ব্যবস্থান উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া।

আসাদুজ্জামান বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নে পূর্ণ অঙ্গিকারসহ আমি পবা-মোহনপুরের জন্য আমার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনয়ন করেছি।

আসাদুজ্জমান আসাদ তার ১৩ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনায় ঘোষণা করে বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে পবা ও মোহনপুরকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যা যা করা দরকার সবকিছুই করবেন। স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে।

আসাদুজ্জমান আসাদ তার ১৩ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রথমেই উল্লেখ করেছেন শিক্ষা উন্নয়নের বিষয়। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গঠনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ। পবা-মোহনপুরবাসীর দীর্ঘদিনের চাওয়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ। মানসম্মত, যুগোপযোগী শিক্ষাবান্ধব ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠনে বিশেষ দৃষ্টি প্রদান।

প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারিকরণ ও এমপিওভুক্ত করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ স্থাপন। খেলার মাঠসমূহের আধুনিকীকরণসহ নিয়মিত খেলাধূলার ব্যবস্থা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন। গরীব, দুঃস্থ ও অসহায় শিক্ষার্থীদের সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোগে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা। স্বাক্ষরতার হার ১০০ ভাগে উন্নীত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টির লক্ষ্যে পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপর গুরুত্ব দিয়ে আসাদ বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষন প্রদান পূর্বক আউট সোর্সিং, আত্মকর্মসংস্থান, ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি পূর্বক বিভিন্ন পন্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারি/বেসরকারি উদ্যোগে আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

আসাদ বলেন, শস্য/ফসল/খাদ্য উৎপাদনে কৃষকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। বিশেষ করে পান, আলু, মাছ, আম ইত্যাদি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি, হাট-বাজারের অবকাঠামোগত সংস্কার/নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ ফসলের জাত গবেষণা, বিকাশ ও উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভ্যবতা যাচাইপূর্বক গবেষণাগার স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে এ সকল পণ্য বিদেশে রপ্তানির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কৃষিতে সার ও কীটনাশক এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সংগ্রহ/সরবরাহ সহজতর করা, কৃষি খামার ও সমবায় সমিতির উদ্যোক্তাগণকে প্রেরণা ও প্রণোদনা প্রদানে গুরুত্ব দেয়া হবে।

আসাদ বলেন, অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়নপূর্বক প্রয়োজনীয় রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ সকল যোগাযোগ অবকাঠামো সংস্কার, মেরামত ও নির্মাণে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হবে। নওহাটা, কাটাখালি ও কেশরহাট পৌরসভার মেয়র মহোদয়গণের সঙ্গে আলোচনাক্রমে নাগরিকদের পৌর সুবিধাসমূহ নিশ্চিতকরণ, বিশেষ করে পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাট এবং পর্যান্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে।

নওহাটা শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষিপণ্য রপ্তানি ও দ্রুত বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে কার্গো বিমান চালুর উদ্যোগ গ্রহণ। কার্যকর নদী ব্যবস্থাপনা ও খননের মাধ্যমে নৌ-রুট চালু করা হবে।

এছাড়া ইশতেহারে আরো যেসব পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়ে তার মধ্যে রয়েছে,

পর্যটন কেন্দ্র, সৌন্দর্যবর্ধন ও আলোকায়ন: পবা-মোহনপুরের বিভিন্ন স্থানে পর্যটন কেন্দ্র/স্পট নির্মাণ করা। রাজশাহী সিটির আদলে পবা-মোহনপুরে দৃষ্টিনন্দন ও সৌন্দর্যবর্ধণ করণ। নদী-খাল-বিলের পাড় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা। নওহাটা থেকে কেশরহাট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দৃষ্টিনন্দন পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। পবা-মোহনপুরের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক স্থানসমূহে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আদলে টেকসই আলোর ব্যবস্থা করা।

মসজিদ, মন্দির, গির্জা, কবরস্থান ও শ্মশান: মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ। কবরস্থান ও শ্মশানের প্রয়োজনীয় উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ওঐতিহ্য: মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সকল কার্যক্রম পরিচালনা। গণকবর, বধ্যভূমি চিহ্নিত ও স্মৃতি ফলক স্থাপন। মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের নামে রাস্তা-ঘাট, মোড়, ভবন স্থাপনার নামকরণ করা। শহীদ পরিবারের প্রতি যথাযথ সম্মান ও সকল প্রকার সমযোগিতা প্রদান। সংসদ সদস্যের আহ্বানে/উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানসমূহে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মঞ্চে আসন সংরক্ষণ।

পাঠাগার, ক্লাব ও সংঘ: জ্ঞানচর্চা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য পাঠাগার স্থাপন ও পাঠক সমাবেশ করা। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য বিদ্যমান ক্লাব ও সংঘের গতিশীলতা বৃদ্ধি করা ।

স্বাস্থ্য, চিকিৎসা: পবা-মোহনপুরের অন্তর্গত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধিসহ সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা। প্রয়োজন অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চিকিৎসক নিয়োগ, যন্ত্রপাতি সপ্তাহ, টেকনোলজিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবায় গুণগত পরিবর্তন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শোধনাগার: পবা-মোহনপুরের জণ্য একটি আধুনিক ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ। বর্জ্য শোধনাগার ও খাল-বিল, নদী-নালার পানি দূষণমুক্ত করার ব্যবস্থা করা।

মানবসম্পদ ও সামাজিক সুরক্ষা: মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদান। প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের উন্নয়নে জাতীয় নীতির বাস্তবায়ন, প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ ও অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিতকরণসহ তাদের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ সৃষ্টির ব্যবস্থা গ্রহণ। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ, বার্মসংস্থান সৃষ্টি, বাল্য বিবাহ রোধসহ নারীর ক্ষমতায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। শিশু অধিকদার রক্ষাসহ তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিশেষ পরিবেশ তৈরি করা।”মাদককে না বলুন’ শীষক মাদক বিরোধী কার্যক্রম গ্রহণ।

জুট মিল ও সুগার মিল: দীর্ঘদিন থেকে অবহেলিত জুট মিল ও সুগার মিলের উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী, পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নওহাটা পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান, মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন কবিরাজ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মোহনপুর উপজেলার সমন্বয়ক এনামুল হক, হুজুরিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।