ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দর্শনা হল্ট রেলওয়ে পুলিশের সহযোগীতায় হারানো ব্যাগ সহ ব্যাগের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফিরে পেলেন এক যাত্রী রাজশাহী জেলা শাখা স্বাচিপ সভাপতি ডা. জাহিদ ও সম্পাদক ডা. অর্ণা জামান চুয়াডাঙ্গায় রেললাইনে ফাটল ধীরগতি ট্রেন চলাচল দর্শনা হল্ট রেলওয়ে স্টেশনে বিশেষ অভিযানে সাগরদাড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি থেকে একজন পকেটমার গ্রেফতার গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবনশঙ্কায় স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী গাজা নিয়ে মতবিরোধ, প্রথম ইহুদি-আমেরিকান বাইডেন কর্মকর্তার পদত্যাগ শ্রম আইন সংশোধনে আইএলও’র পরামর্শ গ্রহণ নিয়ে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হবে: আইনমন্ত্রী রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে শোইগুকে সরিয়ে দিচ্ছেন পুতিন ভয়াবহ আগুন ইসরাইল সেনাঘাঁটিতে নতুন করে চুরি হয়নি রিজার্ভ : বাংলাদেশ ব্যাংক

রাজশাহীর ছয়টি আসনে কে কত ভোট পেলেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ৬টি আসনের বেসরকারী ফলাফলে সদর আসনে চমক দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আর বাকি ৫টিতে নৌকার বিজয় হয়েছে। রোববার (৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন রিটানিং অফিসার শামীম আহমেদ।

তিনি জানান, শান্তিপূর্ণভাবে রাজশাহীর ছয়টি আসনে ভোট গ্রহন হয়েছে। আর পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। আর ভোটারদের উপস্থিতির হার ছিল ৪৬ দশমিক ৪২ শতাংশ।

রিটানিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী রাজশাহী-১ আসনে (তানোর-গোদাগাড়ী) আবারো আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১০৩৫৯২ ভোট। আর একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রাব্বানী পেয়েছেন ৯২৪১৯ ভোট। ফলাফল অনুযায়ী ১১১৭৩ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন টানা তিনবারের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী।

এ আসনে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ট্রাক প্রতিকে পেয়েছেন ৯০০৯ ভোট, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সহধর্মীনি শাহ নেওয়াজ আয়েশা আখতার জাহান ডালিয়া বেলুন প্রতিকে পেয়েছেন ২৭১৮ ভোট, বিএনএম প্রার্থী শামসুজ্জোহা নোঙ্গর প্রতিকে পেয়েছেন ১৯১১ ভোট, জাতীয় পার্টির শামসুদ্দীন লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ৯৩৮, এনপিপির নুরুন্নেসা আম প্রতিকে পেয়েছেন ২৯৬ ভোট, মুক্তিফন্টের বশির আহমেদ ছড়ি প্রতিকে পেয়েছেন ৩৩৫ ভোট, স্বতন্ত্র আখতারুজ্জামান ২০২, বিএনএফের আল-সাআদ টেলিভিশন প্রতিকে পেয়েছেন ৬০৩ ভোট এবং তৃণমূল বিএনপির জামাল খান দুদু সোনালী আঁশ প্রতিকে পেয়েছেন ২৭৩ ভোট।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা (কাঁচি) বিজয়ী হয়েছেন। চতুর্থবারের মত জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোট করা বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এবার ছিটকে গেছেন। এ আসনে ১১২টি কেন্দ্রের ফলাফলে শফিকুর রহমান বাদশা পেয়েছেন ৫৫১৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি নৌকা প্রতিকের প্রার্থী এমপি ফজলে হোসেন বাদশা পেয়েছেন ৩১৪৬০ ভোট। অর্থাৎ ২৩ হাজার ৬৯৬ ভোটের ব্যবধানে স্বতন্ত্র কাঁচির প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা বিজয়ী হয়েছেন।

এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ভোট পেয়েছেন জাসদের আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সিদ্দিকী শিবলী মশাল প্রতিকে পেয়েছেন ১০৬২ ভোট, মুক্তিজোটের ইয়াসির আলিফ বিন হাবিব ছড়ি প্রতিকে পেয়েছেন ৩১০ ভোট, বিএনএমের প্রার্থী কামরুল হাসান নোঙ্গর প্রতিকে পেয়েছেন ২২৮ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মারুফ শাহারিয়ার ডাব প্রতিকে পেয়েছেন ৪০৯ ভোট এবং জাতীয় পার্টির সাইফুল ইসলাম স্বপন লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ১৮১৬ ভোট।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে নৌকার জয়জয়কার হয়েছে। এ আসন থেকে এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশী ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে আসাদুজ্জামান আসাদ ভোট পেয়েছেন ১৫৪৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জাতীয় পার্টির আব্দুস সালাম। তিনি নাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৫২৪৭ ভোট।

এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে নোঙর প্রতীকে বিএনএফের প্রার্থী এ কে এম মতিউর রহমান মন্টু ভোট পেয়েছেন ৩৫২৩ ভোট, মুক্তিজোটের প্রার্থী এনামুল হক ছড়ি প্রতিকে পেয়েছেন  ৮১০ ভোট, বিএনএফের বজলুর রহমান টেলিভিশন প্রতিকে পেয়েছেন ৭৯৯ ভোট, এনপিপির সইবুর রহমান আম প্রতিকে পেয়েছেন ৯৯৫ ভোট।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে এবার জয়ী হয়েছে নৌকার। একটি মাত্র উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটিতে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেছেন অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। আর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেন টানা তিনবারের এমপি এনামুল হক। এখানে নৌকা প্রতীক নিয়ে আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১০৭৯৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি কাঁচি প্রতীক নিয়ে এমপি এনামুল হক পেয়েছেন ৫৩৮১২ ভোট।

এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির আবু তালেব লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ১৫১৮ ভোট, স্বতন্ত প্রার্থী বাবুল হোসেন মাথাল প্রতিকে পেয়েছেন ৮৭০ ভোট, এনপিপির প্রার্থী জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না আম প্রতিকে পেয়েছেন ৫৬০ ভোট এবং বিএনএমের সাইফুল ইসলাম রায়হান নোঙ্গর প্রতিকে পেয়েছেন ১৪৯ ভোট।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা। আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন যুবলীগ নেতা ওবায়দুর রহমান। নৌকার প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ দারা পেয়েছেন ৮৬৯১৩ ভোট ও ঈগল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান পেয়েছেন ৮৩৮৬২ ভোট। অর্থাৎ ৩০৫১ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন আব্দুল ওয়াদুদ দারা।

এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে, জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ১৫৩১ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আলতাফ হোসেন মোল্লা একতারা প্রতিকে পেয়েছেন ৪৪০ ভোট, গণফ্রন্টের মখলেসুর রহমান মাছ প্রতিকে পেয়েছেন ৩২৩ এবং বিএনএমের শরিফুল ইসলাম নোঙ্গর প্রতিকে পেয়েছেন ৩৬৪ ভোট।

রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) এ আসনে চতুর্থবারের মত নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রার্থী ও বর্তমান পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী রাহেনুল হক রায়হান (কাঁচি)। এ আসনে শাহরিয়ার আলম পেয়েছেন ১০১৫৯৯ ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী রাহেনুল হক রায়হান পেয়েছেন ৭৪২৭৮ ভোট। ফলাফলে শাহরিয়ার আলম ২৭৩২১ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে, জাসদের জুলফিকার মান্নান জামী মশাল প্রতিকে পেয়েছেন ২০২ ভোট, বিএনএমের আব্দুস সামাদ নোঙ্গর প্রতিকে পেয়েছেন ২৯০ ভোট, এনপিপির মহসিন আলী আম প্রতিকে পেয়েছেন ৪৮২ ভোট ও জাতীয় পর্টির শামসুদ্দিন রিন্টু লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ৮৯৮ ভোট।

উল্লেখ্য, রাজশাহীর ছয়টি আসনে প্রার্থী ছিলেন ৪২ জন। এর মধ্যে রাজশাহী-১ আসনে ভোটযুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন ১১ (এগারো) জন, রাজশাহী-২ আসনে ৭ (সাত) জন, রাজশাহী-৩ আসনে ৬ (ছয়) জন, রাজশাহী-৪ আসনে ৬ (ছয়) জন, রাজশাহী-৫ আসনে ৬ (ছয়) জন ও রাজশাহী-৬ আসনে ৬ (ছয়) জন।

রাজশাহী জেলায় মোট ভোটার ছিল ২১ লাখ ৭৭ হাজার ৭১৪। ভোটকেন্দ্র ৭৭০টি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৮৪ হাজার ৭৩০ জন। নারী ভোটার ১০ লাখ ৯২ হাজার ২৯৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৮ জন। ভোটকক্ষ ছিল ৪ হাজার ৯৬৩টি। রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে ৯টি উপজেলা, ১৪টি পৌরসভা ও ৭২টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে রাজশাহী-২ আসনটি সিটি করপোরেশনের মধ্যে।

এছাড়াও সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে এবার ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন।

এর মধ্যে ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন পুরুষ আর ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন নারী ভোটার। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৮৫২। সারা দেশে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ১০৩টি, আর ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২টি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজশাহীর ছয়টি আসনে কে কত ভোট পেলেন

আপডেট সময় : ০৯:০২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ৬টি আসনের বেসরকারী ফলাফলে সদর আসনে চমক দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আর বাকি ৫টিতে নৌকার বিজয় হয়েছে। রোববার (৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন রিটানিং অফিসার শামীম আহমেদ।

তিনি জানান, শান্তিপূর্ণভাবে রাজশাহীর ছয়টি আসনে ভোট গ্রহন হয়েছে। আর পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। আর ভোটারদের উপস্থিতির হার ছিল ৪৬ দশমিক ৪২ শতাংশ।

রিটানিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী রাজশাহী-১ আসনে (তানোর-গোদাগাড়ী) আবারো আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১০৩৫৯২ ভোট। আর একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রাব্বানী পেয়েছেন ৯২৪১৯ ভোট। ফলাফল অনুযায়ী ১১১৭৩ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন টানা তিনবারের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী।

এ আসনে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ট্রাক প্রতিকে পেয়েছেন ৯০০৯ ভোট, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সহধর্মীনি শাহ নেওয়াজ আয়েশা আখতার জাহান ডালিয়া বেলুন প্রতিকে পেয়েছেন ২৭১৮ ভোট, বিএনএম প্রার্থী শামসুজ্জোহা নোঙ্গর প্রতিকে পেয়েছেন ১৯১১ ভোট, জাতীয় পার্টির শামসুদ্দীন লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ৯৩৮, এনপিপির নুরুন্নেসা আম প্রতিকে পেয়েছেন ২৯৬ ভোট, মুক্তিফন্টের বশির আহমেদ ছড়ি প্রতিকে পেয়েছেন ৩৩৫ ভোট, স্বতন্ত্র আখতারুজ্জামান ২০২, বিএনএফের আল-সাআদ টেলিভিশন প্রতিকে পেয়েছেন ৬০৩ ভোট এবং তৃণমূল বিএনপির জামাল খান দুদু সোনালী আঁশ প্রতিকে পেয়েছেন ২৭৩ ভোট।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা (কাঁচি) বিজয়ী হয়েছেন। চতুর্থবারের মত জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোট করা বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এবার ছিটকে গেছেন। এ আসনে ১১২টি কেন্দ্রের ফলাফলে শফিকুর রহমান বাদশা পেয়েছেন ৫৫১৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি নৌকা প্রতিকের প্রার্থী এমপি ফজলে হোসেন বাদশা পেয়েছেন ৩১৪৬০ ভোট। অর্থাৎ ২৩ হাজার ৬৯৬ ভোটের ব্যবধানে স্বতন্ত্র কাঁচির প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা বিজয়ী হয়েছেন।

এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ভোট পেয়েছেন জাসদের আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সিদ্দিকী শিবলী মশাল প্রতিকে পেয়েছেন ১০৬২ ভোট, মুক্তিজোটের ইয়াসির আলিফ বিন হাবিব ছড়ি প্রতিকে পেয়েছেন ৩১০ ভোট, বিএনএমের প্রার্থী কামরুল হাসান নোঙ্গর প্রতিকে পেয়েছেন ২২৮ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মারুফ শাহারিয়ার ডাব প্রতিকে পেয়েছেন ৪০৯ ভোট এবং জাতীয় পার্টির সাইফুল ইসলাম স্বপন লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ১৮১৬ ভোট।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে নৌকার জয়জয়কার হয়েছে। এ আসন থেকে এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশী ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে আসাদুজ্জামান আসাদ ভোট পেয়েছেন ১৫৪৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জাতীয় পার্টির আব্দুস সালাম। তিনি নাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৫২৪৭ ভোট।

এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে নোঙর প্রতীকে বিএনএফের প্রার্থী এ কে এম মতিউর রহমান মন্টু ভোট পেয়েছেন ৩৫২৩ ভোট, মুক্তিজোটের প্রার্থী এনামুল হক ছড়ি প্রতিকে পেয়েছেন  ৮১০ ভোট, বিএনএফের বজলুর রহমান টেলিভিশন প্রতিকে পেয়েছেন ৭৯৯ ভোট, এনপিপির সইবুর রহমান আম প্রতিকে পেয়েছেন ৯৯৫ ভোট।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে এবার জয়ী হয়েছে নৌকার। একটি মাত্র উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটিতে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেছেন অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। আর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেন টানা তিনবারের এমপি এনামুল হক। এখানে নৌকা প্রতীক নিয়ে আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১০৭৯৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি কাঁচি প্রতীক নিয়ে এমপি এনামুল হক পেয়েছেন ৫৩৮১২ ভোট।

এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির আবু তালেব লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ১৫১৮ ভোট, স্বতন্ত প্রার্থী বাবুল হোসেন মাথাল প্রতিকে পেয়েছেন ৮৭০ ভোট, এনপিপির প্রার্থী জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না আম প্রতিকে পেয়েছেন ৫৬০ ভোট এবং বিএনএমের সাইফুল ইসলাম রায়হান নোঙ্গর প্রতিকে পেয়েছেন ১৪৯ ভোট।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা। আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন যুবলীগ নেতা ওবায়দুর রহমান। নৌকার প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ দারা পেয়েছেন ৮৬৯১৩ ভোট ও ঈগল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান পেয়েছেন ৮৩৮৬২ ভোট। অর্থাৎ ৩০৫১ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন আব্দুল ওয়াদুদ দারা।

এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে, জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ১৫৩১ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আলতাফ হোসেন মোল্লা একতারা প্রতিকে পেয়েছেন ৪৪০ ভোট, গণফ্রন্টের মখলেসুর রহমান মাছ প্রতিকে পেয়েছেন ৩২৩ এবং বিএনএমের শরিফুল ইসলাম নোঙ্গর প্রতিকে পেয়েছেন ৩৬৪ ভোট।

রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) এ আসনে চতুর্থবারের মত নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রার্থী ও বর্তমান পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী রাহেনুল হক রায়হান (কাঁচি)। এ আসনে শাহরিয়ার আলম পেয়েছেন ১০১৫৯৯ ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী রাহেনুল হক রায়হান পেয়েছেন ৭৪২৭৮ ভোট। ফলাফলে শাহরিয়ার আলম ২৭৩২১ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে, জাসদের জুলফিকার মান্নান জামী মশাল প্রতিকে পেয়েছেন ২০২ ভোট, বিএনএমের আব্দুস সামাদ নোঙ্গর প্রতিকে পেয়েছেন ২৯০ ভোট, এনপিপির মহসিন আলী আম প্রতিকে পেয়েছেন ৪৮২ ভোট ও জাতীয় পর্টির শামসুদ্দিন রিন্টু লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ৮৯৮ ভোট।

উল্লেখ্য, রাজশাহীর ছয়টি আসনে প্রার্থী ছিলেন ৪২ জন। এর মধ্যে রাজশাহী-১ আসনে ভোটযুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন ১১ (এগারো) জন, রাজশাহী-২ আসনে ৭ (সাত) জন, রাজশাহী-৩ আসনে ৬ (ছয়) জন, রাজশাহী-৪ আসনে ৬ (ছয়) জন, রাজশাহী-৫ আসনে ৬ (ছয়) জন ও রাজশাহী-৬ আসনে ৬ (ছয়) জন।

রাজশাহী জেলায় মোট ভোটার ছিল ২১ লাখ ৭৭ হাজার ৭১৪। ভোটকেন্দ্র ৭৭০টি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৮৪ হাজার ৭৩০ জন। নারী ভোটার ১০ লাখ ৯২ হাজার ২৯৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৮ জন। ভোটকক্ষ ছিল ৪ হাজার ৯৬৩টি। রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে ৯টি উপজেলা, ১৪টি পৌরসভা ও ৭২টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে রাজশাহী-২ আসনটি সিটি করপোরেশনের মধ্যে।

এছাড়াও সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে এবার ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন।

এর মধ্যে ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন পুরুষ আর ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন নারী ভোটার। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৮৫২। সারা দেশে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ১০৩টি, আর ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২টি।